বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬
 শিরোনাম
বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিপ্লব এবং সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর হচ্ছে ডিসেম্বরে প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা, দৈনিক গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য ১,৭৫২ মিলিয়ন ঘনফুট আর্টিলারি রেজিমেন্টের অধিনায়ক সম্মেলন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে চীনের অঙ্গীকার: লিউ ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্পপর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা: মাহদী আমিন আইসিএপিপির ১৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সিউলে বিএনপি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে

শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির ভয়ানক অবস্থা

শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির ভয়ানক অবস্থা

বৃষ্টি কমলেও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা প্রবল পাহাড়ি ঢলের কারণে শেরপুরের তিন উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

ঢলের পানি ভাটির দিকে নামতে থাকায় নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নতুন করে ঢলের পানি ঢুকেছে নকলা উপজেলার নিম্নাঞ্চলেও।

ওই চার উপজেলার ২০ ইউনিয়নের কমপক্ষে ১২২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে যাওয়ার সময় নালিতাবাড়ীতে নারীসহ তিনজনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা এসব মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধারে দমকল বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীদের পাশাপাশি উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে সেনাবাহিনীও।

শেরপুর সেনাক্যাম্পের একটি চৌকস দল এ উদ্ধার কাজে সম্পৃক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন নালিতাবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

আজ শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ওই দুই উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়নের সবগুলোই পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ঢলের তোড়ে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। ডুবে গেছে ধান ও সবজির আবাদ, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ, গাছপালা, হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগলসহ গৃহপালিত প্রাণি। এতে দারুণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। ঢলের পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে থাকা ও ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন অনেক এলাকার মানুষ।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে পানিবন্দীদের উদ্ধারে নেমেছে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস। বিভিন্ন এলাকা থেকে ঝুঁকিতে থাকা কমপক্ষে সহস্রাধিক পরিবারকে উঁচু ও নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামে শুক্রবার মধ্যরাতে তিন মাসের একটি শিশুকে ঘরের সিলিং থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড রেসপন্স বিডি নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী রেসকিউ টিম (উদ্ধারকারী দল)। ঘরের ভেতরে বুক সমান পানি উঠায় শিশুটিকে নিরাপদে রাখার জন্য পরিবারের সদস্যরা ঘরের সিলিংয়ের ওপর রেখেছিল। সেখান থেকে ওই শিশুসহ পুরো পরিবারটিকে উদ্ধার করেছে ময়মনসিংহ থেকে আসা ওই উদ্ধারকারীরা।

 

এদিকে ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সকল স্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম এবং ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ সমন্বয়ের জন্য কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার জন্য পৃথক টিম গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাকবলিতদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।