বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬
 শিরোনাম
বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিপ্লব এবং সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর হচ্ছে ডিসেম্বরে প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা, দৈনিক গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য ১,৭৫২ মিলিয়ন ঘনফুট আর্টিলারি রেজিমেন্টের অধিনায়ক সম্মেলন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে চীনের অঙ্গীকার: লিউ ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্পপর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা: মাহদী আমিন আইসিএপিপির ১৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সিউলে বিএনপি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে

রপ্তানি কমায় ডলার সংকট বাড়ছে

রপ্তানি কমায় ডলার সংকট বাড়ছে

রপ্তানি কমে যাওয়ায় দেশে কয়েকমাস ধরে চলছে ডলার সংকট। এ সংকট উত্তরণের অন্যতম উৎস রপ্তানি আয়। কিন্তু রপ্তানিতে ভাটার টান দেখা যাচ্ছে। এ কারণে ডলার ঘাটতি মেটার কোনো সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরে অক্টোবর-নভেম্বরের পর ডিসেম্বর মাসেও রপ্তানি আয় কমেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাস পণ্য রপ্তানি বেড়েছিল। কিন্তু এরপর থেকেই ধারাবাহিক কমছে। গেল অক্টোবর রপ্তানি আয় কমে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ হয়েছে। পরের মাস নভেম্বরে কমেছে ৬ শতাংশ। সর্বশেষ গত মাস, অর্থাৎ ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় কমেছে এক দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। 

মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিসেম্বর মাসে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৫৩০ কোটি ডলারের, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ কম এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এক দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ কম।

এর আগে চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে ৪৫৯ কোটি, আগস্টে ৪৭৮ কোটি এবং সেপ্টেম্বরে ৪৩১ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়।

সবমিলিয়ে গত জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ২ হাজার ৭৫৪ কোটি ডলার। এই রপ্তানি গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় মাত্র দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ কম। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানির লক্ষ্য ঠিক করা ছিল তিন হাজার ১১ কোটি ডলার।

ইপিবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তৈরি পোশাক ছাড়া অধিকাংশ পণ্যের রপ্তানি কমেছে। এর মধ্যে রয়েছে হিমায়িত খাদ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্য ইত্যাদি।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল। ওই সময় প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার। ইপিবির তথ্য অনুসারে— ডিসেম্বর শেষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পণ্য রপ্তানি সাড়ে ৮ শতাংশের বেশি পিছিয়ে আছে।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশের রপ্তানি পণ্যের প্রধান খাত তৈরি পোশাক খুব ভালো আয় করতে পারেনি। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে দুই হাজার ৩৩৯ কোটি ডলার সমপরিমাণ মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এক দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ কম।

ছয় মাসে পোশাক রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ছিল দুই হাজার ৫৩৯ কোটি ডলার। আলোচ্য সময়ে নিট পোশাকের রপ্তানি ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে ওভেন পোশাক রপ্তানি কমেছে  ৪ দশমিক ১২ শতাংশ।

তৈরি পোশাকের বাইরে গত ছয় মাসে রপ্তানি তালিকার শীর্ষে থাকা পণ্যের রপ্তানিও কমেছে। গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। চামড়া ও চামড়া পণ্যের রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ কম হয়েছে। এ ছাড়া, হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি কমেছে ৩৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ।  এ ছাড়া, আরো অনেক পণ্যের রপ্তানি কমার প্রবণতার মধ্যে রয়েছে। অবশ্য কৃষি পণ্যের রপ্তানি চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ২ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়েছে এবং প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি ১৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়েছে।