বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬
 শিরোনাম
বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিপ্লব এবং সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর হচ্ছে ডিসেম্বরে প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা, দৈনিক গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য ১,৭৫২ মিলিয়ন ঘনফুট আর্টিলারি রেজিমেন্টের অধিনায়ক সম্মেলন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে চীনের অঙ্গীকার: লিউ ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্পপর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা: মাহদী আমিন আইসিএপিপির ১৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সিউলে বিএনপি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে

তিন দেশের সমঝোতায় নতুন চুক্তি, স্বাক্ষর করল লেবানন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র

তিন দেশের সমঝোতায় নতুন চুক্তি, স্বাক্ষর করল লেবানন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র

লেবানন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার একটি ত্রিপক্ষীয় প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যার উদ্দেশ্য হল মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তির ভিত তৈরি করা। 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত পাঁচ দফা আলোচনার পর ইসরাইল ও লেবানন একটি কাঠামোগত সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। সে অনুযায়ী পরীক্ষামূলক ধাপে লেবাননের সেনাবাহিনী ইসরাইল-অধিকৃত দুটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে। 

একই সঙ্গে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার জন্য একটি কাঠামোগত প্রক্রিয়াও এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বলেন, এটি স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি কাঠামো গড়ে তোলার সূচনা মাত্র। 

তিনি আরও বলেন,  ‘এটি কেবল শুরু, সামনে অনেক কাজ বাকি।’

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদে মাওয়াদ বলেন, এই চুক্তি লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার, যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করা এবং জনগণকে তাদের ভূমিতে ফেরার সুযোগ তৈরির প্রথম পদক্ষেপ।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে ‘ইরানের প্রভাবের অবসান ঘটবে, হিজবুল্লাহর ভূমিকাও শেষ হবে এবং ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে শান্তির পথ উন্মুক্ত হবে।’

মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ গত ২ মার্চ ইসরাইলকে লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালায়। এর মধ্য দিয়ে লেবাননও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

ইসরাইল এর জবাবে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায়। এরপর থেকে তাদের সেনারা দক্ষিণ লেবাননের বড় অংশে অবস্থান বজায় রেখেছে। ওই এলাকায় তারা বহু বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা ভেঙে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক শুক্রবার গভীর রাতে প্রকাশিত চুক্তি অনুসারে, ইসরাইল ও লেবানন ঘোষণা করেছে যে তারা সংঘাতের অবসান ঘটাতে চায়। পাশাপাশি সংঘাতের পেছনের মূল কারণগুলোও সমাধান করতে চায় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধাবস্থা সমাপ্ত করতে চায়।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী (এলএএফ) যেন পুরো লেবানন ভূখণ্ডে রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারে, সে জন্য একটি প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর আগে হিজবুল্লাহসহ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত করতে হবে।

চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ধীরে ধীরে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহার করতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চুক্তি স্বাক্ষর সত্ত্বেও চুক্তি সত্ত্বেও ইসরাইল এবং দেশটির চিরশত্রু হিজবুল্লাহ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, উভয় পক্ষের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। 

হিজবুল্লাহ লেবানন সরকারের অংশ হলেও রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে তাদের একটি শক্তিশালী সশস্ত্র শাখা রয়েছে।