রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
 শিরোনাম
ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যালোচনায় হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৬ পর্যটকের পরিচয় মিলেছে আট কারিগরি প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়ন করবে বাংলাদেশ-চীন, গড়বে যৌথ বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান দেখে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, দিলেন বরখাস্তের নির্দেশ চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বান চিফ হুইপের জনবান্ধব সরকার হিসেবে বর্তমান সরকারের প্রশংসায় রুহুল কবির রিজভী ইসরাইলের দখলদারিত্ব অবসানে জাতিসংঘের কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান বাংলাদেশের ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—বললেন রাষ্ট্রপতি বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে: অর্থমন্ত্রী ডেঙ্গুতে দৈনিক মৃত্যুর নতুন রেকর্ড, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার

কক্সবাজারের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৬ পর্যটকের পরিচয় মিলেছে

কক্সবাজারের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ৬ পর্যটকের পরিচয় মিলেছে

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে ইনানী পাটোয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ডে ৬ পর্যটক মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত কয়েকজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার সকাল ৭টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটে। বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয় বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন।

অগ্নিকাণ্ডে নিহতরা হলেন- ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)। নিহত ৬ জনই নারী।

এ ঘটনায় আহত ৬ জন হলেন-মুগধা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, আহতদের মধ্যে ৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। অপরজন পড়ে গিয়ে আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। দগ্ধ ৫ জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁটি কাঠের তৈরি। এতে মোট রুম ছিল ৯টি। গতকাল শুক্রবার রাতে তিন রুমের পর্যটক চেকআউট হয়ে চলে যান। বাকি ৬ রুমে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্য থেকে ৫ থেকে ৬ জনের মতো সকালে বেরিয়ে বিভিন্ন কাজে বাইরে ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডে তাদের মধ্য থেকে ৬ জন মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

টুপটুপ রিসোর্টের ইনচার্জ মো. সুমন জানান, রিসোর্টের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

তিনি বলেন, শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে আমরা নেভানোর চেষ্টা করি। ততক্ষণে রিসোর্টের এসি ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে পুরো রিসোর্টে আগুন ধরে যায়।

এদিকে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার পর খবর পেয়ে সকাল ৮টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে সকাল ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।

প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, ৪ থেকে ৫ জন বের হতে পেরেছেন। তবে বাকিদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন নিশ্চিত করে জানান, রিসোর্ট থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আরও একজন নিহত হয়। নিহতরা সবাই পর্যটক বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। 

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিভাবে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

রিসোর্টটির আগুন নেভানোর নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা না।

ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁটি নির্মাণ করা হয়েছে। গত জুন মাসে এ বিষয়ে রিসোর্টকে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন।

তিনি বলেন, রিসোর্টটি মানসম্মত নয়। মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচ তলায় খাবার তৈরি হতো। ফায়ার সার্ভিস থেকে রিসোর্টটি ২২ কিলোমিটার দূরে।

মোরশেদ হোসেন বলেন, মেরিন ড্রাইভের বেশিরভাগ রিসোর্টের কোনো ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি নিরাপত্তার ছাড়পত্র না নিয়েই তৈরি হয়েছে।