বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ১৫, ২০২৬
 শিরোনাম
মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা: নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে মনোনয়ন গ্রহণ ও বাতিলের বিরুদ্ধে ইসিতে পঞ্চম দিনের আপিল শুনানি ট্রেনের ওপর ক্রেন পড়ায় ২২ জনের প্রাণহানি থাইল্যান্ডে, আহত ৩০ পঞ্চগড়ে আজও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা অভ্যুত্থানের পর পেঁয়াজ-রসুনসহ ২০টি দাম কমেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৬ জারি করল এনবিআর উচ্চশিক্ষা বিষয়ে ৩ দিনের দক্ষিণ এশীয় সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা শরীয়াভিত্তিক ঋণে যুক্ত হচ্ছে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক: আসিফ নজরুল গণভোট বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে দেশব্যাপী কর্মসূচি আসন্ন নির্বাচনে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান: আনসার সদস্যদের প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

অভ্যুত্থানের পর পেঁয়াজ-রসুনসহ ২০টি দাম কমেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের

অভ্যুত্থানের পর পেঁয়াজ-রসুনসহ ২০টি দাম কমেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের

গণ-অভ্যুত্থানের পর পেঁয়াজ ও রসুনসহ ২০টি নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের দাম কমেছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর এ কথা জানিয়েছে। 

বাংলাদেশে নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক কৃষি পণ্যের উৎপাদন হলেও, বাজারে দামের চিত্র ছিল সব সময় ঊর্ধ্বমুখী। 

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের আগে আলুর কেজি প্রতি খুচরা দাম ছিল ৬০ টাকা। এ বছরে সবজিটির দাম ৫৮ শতাংশ কমে হয়েছে ২৫ টাকা।

দেশে গণ-অভ্যুত্থানের আগে দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ১২০ টাকা। এ বছর পেঁয়াজের দাম ১২ শতাংশ কমে হয়েছে ১০৫ টাকা। আমদানীকৃত পেঁয়াজের দাম ছিল ১০০ টাকা। এ বছর ২৫ শতাংশ দাম কমে হয়েছে ৭৫ টাকা।

গণ-অভ্যুত্থানের আগে দেশি রসুনের দাম ছিল ২২০ টাকা। এ বছর রসুনের দাম ৪৫ শতাংশ কমে হয়েছে ১২০ টাকা। চায়না রসুনের দাম ছিল ২২০ টাকা। এ বছর ২২ শতাংশ দাম কমে তা হয়েছে ১৭০ টাকা।

গণ-অভ্যুত্থানের আগে মোটা জাতের মসুরি ডালের দাম ছিল ১১০ টাকা। এ বছর ১০ শতাংশ দাম কমে হয়েছে ১০০ টাকা। মোটা জাতের মুগডালের মূল্য ছিল ১৫০ টাকা। এ বছর ২৩ শতাংশ দাম কমে তা হয়েছে ১১৫ টাকা।

খেসারি ডালের মূল্য ছিল ১২০ টাকা। এবছর ১২ শতাংশ দাম কমে তা হয়েছে ১০৫ টাকা। মাশকলাই কেজি প্রতি মূল্য ছিল ২০০ টাকা। এ বছর ২০ শতাংশ দাম কমে তা হয়েছে ১৮০ টাকা।

গণ-অভ্যুত্থানের আগে দেশে ছোলার কেজি প্রতি মূল্য ছিল ১২০ টাকা। এ বছর ১২ শতাংশ দাম কমে তা হয়েছে ১০৫ টাকা। 

গণ-অভ্যুত্থানের আগে খোলা চিনির মূল্য ছিল ১৩৫ টাকা। এ বছর ২২ শতাংশ দাম কমে তা হয়েছে ১০৫ টাকা।

এ ছাড়া গণ-অভ্যুত্থানের আগে আমদানীকৃত আদার মূল্য ছিল ৩০০ টাকা। এ বছর ৪০ শতাংশ দাম কমে তা হয়েছে ১৮০ টাকা। শুকনা মরিচের মূল্য ছিল ৩৫০ টাকা। এ বছর ২৮ শতাংশ দাম কমে তা হয়েছে ২৫০ টাকা।

কাঁচা মরিচের মূল্য ছিল ১৮০ টাকা। এ বছর ২২ শতাংশ দাম কমে হয়েছে ১৪০ টাকা। 

আগে টমেটোর মূল্য ছিল ১৬০ টাকা। এ বছর ২৫ শতাংশ দাম কমে হয়েছে ১২০ টাকা। 

আগে গাজরের দাম ছিল ১০০ টাকা। এ বছর ৪০ শতাংশ দাম কমে তা হয়েছে ৬০ টাকা।

এছাড়া দেশি মুরগীর কেজি প্রতি মূল্য ছিল ৬০০ টাকা। এ বছর তা কমে হয়েছে ৫৮০ টাকা। 

ব্রয়লার মুরগীর মূল্য ছিল ১৮০ টাকা। এ বছর তা কমে হয়েছে ১৭০ টাকা। 

ডিমের পিস প্রতি মূল্য ছিল ১২.১০ টাকা। এ বছর তা কমে হয়েছে ১০ টাকা।

উপরে উল্লিখিত তথ্যগুলো কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের খুচরা বাজারদরের হালনাগাদ তথ্য ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের ৮ তারিখের বাজারদরের হালনাগাদ তথ্য থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাতিরপুল কাঁচা বাজারে কথা বলেন অ্যাডভোকেট সোহেল রহমান।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের দাম অনেক সময় সাধারণ নাগরিকদের নাগালের বাইরে চলে যায়। 

সোহেল রহমান আরও বলেন, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নিয়ে বিগত সময়ে কথা হলেও, সরকারের পক্ষ থেকে আমরা কোন উদ্যেগ দেখিনি। গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বল্প পরিসরে হলেও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সরকার কমাতে পেরেছে।

দেশে একটি নির্বাচিত সরকার আসলে নিত্য প্রয়োজনীয় এ সব দ্রব্যের দাম আরও কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাজধানীর পলাশী মার্কেটে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উম্মে আফসারার সঙ্গে। হলে থাকা হলেও তিনি নিয়মিত বাজার করে নিজেই রান্না করেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসকদের জনগণকে প্রয়োজন নেই। তাই তারা জনগণকে কখনো প্রাধান্যই দেননি। যে কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আমাদের নাগালের বাইরে ছিল।

তিনি আরও বলেন, রান্নার জন্য কাঁচা মরিচ একটি প্রয়োজনীয় পণ্য। কিন্তু বিগত সময়ে কাঁচা মরিচের কেজি দেড় হাজারেরও বেশি ছিল। সরকারের সদিচ্ছা ছিল বলেই এখন অনেক পণ্যের দাম কমেছে।