শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬
 শিরোনাম
শ্রমিক আন্দোলনে পোশাক খাতে ক্ষতির আশঙ্কা দেড় হাজার কোটি টাকা কোস্ট গার্ডের ৫ জাহাজের নাম পরিবর্তন, নতুন নাম কী হলো? চিকিৎসার কথা বলে ফ্ল্যাটে ডেকে ১২ জনের হামলা, গ্রেফতার দুই অভিনয়শিল্পী নেতানিয়াহুকে সরাতে ৬৭ এমপির সমর্থন, ইসরাইলে ক্ষমতার পালাবদলের আভাস ২০২৯ সালে বন্ধ হচ্ছে টু-জি, অচল হয়ে যাবে ৬ কোটির বেশি বাটন ফোন? বাড্ডায় বৈশাখী পরিবহনের বাসে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় পুলিশ সদস্যের হাত-পা ভাঙল, কেটে দেওয়া হলো পায়ের রগ যুদ্ধবিরতিতে ৬ লাখ কোটি টাকা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চায় হুতিরা বইয়ের স্বপ্ন নিয়ে গড়া উদ্যোগ, ২৬ বছরেই ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল অরূপের ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি, বললেন ‘শিগগিরই জানতে পারবেন’

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায় ওয়াশিংটন

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায় ওয়াশিংটন

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত জাতীয় দিবস অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন অর্থনীতি, জ্বালানি ও নিরাপত্তা খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জাতীয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিমান চলাচল ও জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ পারস্পরিক উপকারী অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিচ্ছে।

সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরর্টি)’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ চুক্তি বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতামূলক শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে সহায়তা করবে এবং একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক উন্নীত করবে।

তিনি বলেন, এ চুক্তি এমন একটি ‘কমন সেন্স’ কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যেখানে উভয় দেশ নিজেদের জনগণের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি পারস্পরিক সুবিধার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে।

বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা প্রসঙ্গে ক্রিস্টেনসেন সম্প্রতি বোয়িং ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যে হওয়া উড়োজাহাজ চুক্তির কথা উল্লেখ করেন। 

তিনি বলেন, এ অংশীদারিত্ব উড়োজাহাজ সরবরাহ, পাইলট প্রশিক্ষণ ও কারিগরি উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখবে।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত জ্বালানি সহযোগিতা বিষয়ক সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ চুক্তি বাংলাদেশের জ্বালানি প্রকল্প, শিল্পোন্নয়ন ও জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে রয়েছে।’

ক্রিস্টেনসেন বলেন, হাম টিকাদান কর্মসূচি ও জরুরি সাড়া কার্যক্রমসহ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ইস্যুতেও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৭৭৬ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত স্বাধীনতা, স্বশাসন ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার নীতিগুলো এখনও বিশ্বজুড়ে মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি মাত্র পার্চমেন্ট কাগজ এবং ৫৬টি স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমেরিকা মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছিল।’

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিরও ঘোষণা দেন রাষ্ট্রদূত। এর মধ্যে রয়েছে গুলশান ও বনানীতে লাল-সাদা-নীল থিমের ৫০টি রিকশা চালু, সেন্টারপয়েন্ট মলে ‘আমেরিকান ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম’ স্থাপন এবং জুলাইয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটে ‘আমেরিকা উইক’ রোড শো আয়োজন।

তিনি বলেন, এসব আয়োজন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন এবং ভবিষ্যতেও দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের ওয়াশিংটনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।